Read more
ইফতার গ্রহনে সাবধান
রমজানের রোজা রাখা যেমন আবশ্যকীয় ইবাদত, তেমনি
ইফতার করাও একটি (সুন্নাত) ইবাদত । ‘ইফতার’ আরবি শব্দ এটি বিশ্লেষণ করলে এর অর্থ দাড়ায় উপবাস ভঙ্গ করা, খাবার খাওয়া, নাস্তা করা ইত্যাদি। একজন
রোজাদার মুমিন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে খুশি করার মানসে রোজা ভঙ্গ করার
উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহর (সা.) সুন্নাত মোতাবেক যে খাবার গ্রহণ করে, তাকেই ইফতার বোঝায়। তবে রমজানের রোযাকে উদ্দেশ্য করে যা কিছু করা তা
সম্পূর্ণই ইবাদতের মধ্যে পড়ে। কিন্তু তা আল্লাহ ও রাসুল (সা:) এর তরিকায় হতে হবে।
যদি আমরা ইসলামী রীতি-নীতি মোতাবেক ইফতার ও সাহরী গ্রহণ করি তাহলে স্বাস্থ্য
রক্ষা খুবই সহজ হবে, যাহা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগেনর পরীক্ষায় প্রমাণিত। রমজানের
ইফতার এবং সাহরিকে ভোজন রসনায় পরিণত করার ফলে রোজার আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে
মানুষ ব্যর্থ হয়।স্বাস্থ্যসম্মত সুন্নাতি ইফতার করাই শ্রেয়। যেভাবে ইফতার করতেন
বিশ্বনবি; যে ইফতারের রয়েছে সুস্থ থাকার বৈজ্ঞানিক
ব্যাখ্যা।
ভাজা-পোড়া কেন বর্জনীয় : আমরা সবাই জানি ইফতারে
ভাজা-পোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কেননা
সারাদিন উপবাস থাকার কারনে আমাদের পাকস্থলী
ও পরিপাকতন্ত্র অবসর থাকে এ অবস্থায় ইফতারের সঙ্গে সঙ্গে সীমাতিরিক্ত ভাজা-পোড়া ও
চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণে পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে। যা স্বাস্থ্যের
জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
ইফতারে কেন খেজুর ও স্বচ্ছ পানি রাখা দরকার: প্রিয়নবি
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে সে যেন
খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা তাতে বরকত (কল্যাণ) রয়েছে। আর যদি খেজুর না পাওয়া
যায় তবে সে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে। কেননা তা পবিত্রকারী। (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারেমি, মিশকাত)।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রমাণিত, ইফতারের সময় হলে প্রথমে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার
করা অতি উত্তম। রোজা ভঙ্গ করতে ইফতারের সময় প্রথমে খেজুর এবং পানি দেহে গ্লুকোজ
তৈরি করে থাকে। ফলে মুহূর্তেই তৃষ্ণা এবং শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
খেজুর ও পানি দ্বারা ইফতারের পর আল্লাহর রাসুল
(স:) বলতেন, প্রিয়নবি ইরশাদ করেন- হজরত
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন, ‘পিপাসা দূর হলো,
শিরা উপশিরাসিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান তবে সাওয়াব স্থির হলো। (আবু দাউদ ও মিশকাত)।
খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নাত : হজরত সালমান ইবনে
আমের (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন : তোমাদের
কেউ যখন ইফতার করে, তার উচিত খেজুর দিয়ে ইফতার করে। তবে
সে যদি খেজুর না পায়, তাহলে সে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে।
কারণ পানি পাক-পবিত্র। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা : ৮৪৭, মুসনাদে
আহমাদ : ১৬২২৫, সহিহ ইবনে খুজাইমা : ২৭৮, বায়হাকি শুআবুল ইমান : ৩৬১৫)।
আমাদের প্রচলিত
ইফতারী : বিশেষ করে আমাদের
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ভোজন রসিক। তাই বেশিরভাগ লোককে দেখা যায়, ইফতারের সময় গুরুপাক গোছের অত্যধিক তৈলাক্ত ভাজা, পোড়া খাবার-দাবার
খেতে। সারাদিনের উপবাসের চাহিদা মেটাতে এবং সারা দিন না খাওয়ার অভাবটুকু ইফতারে
পুষিয়ে নেবার জন্য এই ভূলটি করে থাকেন। মনে রাখা দরকার ইফতার শুরু করতে হবে শরবত
দিয়ে। বাজারে কৃত্রিম রঙ মেশানো শরবত নয় ঘরে বানানো লেবু, বিভিন্ন ফল দিয়ে শরবত
পান করা স্বাস্থের জন্য ভীষন উপকারী। বেশি
করে ফল-মূল খাওয়া উচিত। ফলের উপকারিতা হচ্ছে পানিশূন্যতা দূর করে দ্রুত শরীরকে
সতেজ করে। ডাবের পানিও রোজার সময় ভীষন উপকারী। খেজুরের সাথে আম, আনারস ইত্যাদি মৌসুমী ফল হলে আরো ভাল। দই, চিড়াও
স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। মনে রাখা জরুরী যে, সহজে হজম হয় এমন ধরনের খাবার গ্রহণ
ইফতারির জন্য উপকারী। অত:পর সামান্য পরিমান বুট, ছোলা ও
মুড়ি খেতে পারেন । সাধ্যমত দই, চিঁড়া, আপেল, কমলা, কলা ইত্যাদি
ফল খেতে পারলে আরো ভাল। তবে বাজারে তৈরী বেগুনি, বুট, বিভিন্ন ধরনের তৈলাক্ত সপ ও
পেঁয়াজু সর্বদা পরিহার করাই শ্রেয়। তেলে/ঘিয়ে ভাজা দোকানের এসব খাবার স্বাস্থ্য
বিপর্যয় ঘটিয়ে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। মনে রাখবেন তেল বারবার গরম করলে ক্ষতিকর
পলিনিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়, যার মধ্যে থাকে
বেনজোপাইরিন। এটা ক্যান্সারের সৃষ্টি করে।
উপসংহার -----
মুসলিম উম্মাহর জন্য ইফতার ও সেহরীর সময়টি অধিক মূল্যবান। আল্লাহ ও রাসুলের (স:) এর প্রদর্শিত পথে অবিচল আস্তা রেখে নির্ধারিত সময়ে ইফতার সেহরী খাওয়া সওয়াব। তাই এই সময়ে বিশ্বনবির ইফতারের অনুসরণ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুকরণীয় উত্তম আদর্শ। তাই রমজানের সময় যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্যসম্মত ও হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।



0 Reviews