Read more


আমরা কেন রোযা রাখবো ?

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে রোজা তৃতীয়। পাঁচটি স্তম্ভের গুরুত্ব ও মর্যাদার দিক দিয়ে রোজাদারের অবস্থান ও মর্যাদা সবার ওপরে। বেহেশতেও রোজাদারদের পৃথক মর্যাদার ব্যবস্থা থাকবে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘রোজাদাররা রাইয়ান দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহ্র সাক্ষাৎ লাভের আশীর্বাদে পুরস্কৃত হবে।’(বুখারি) ইমাম গাজ্জালি যথার্থই বলেছেন, ‘সব এবাদতই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের জন্য, তবুও মার্যাদার উচ্চতায় রোজা পবিত্র কাবাগৃহের ন্যায় প্রাধান্য রাখে, যদিও সমস্ত ভূপৃষ্ঠই আল্লাহ্ তাআলার সৃষ্টি।
শারীরিক ও মানসিক উন্নতির প্রধান কারণ হলো, ইসলামের রোজা রাখার পদ্ধতি। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ধর্মেই রোজা রাখার রীতি প্রচলি আছে। কিন্তু তাদের রোজা রাখার নিয়মও ভিন্ন ও স্বাস্থ্য হানিকর চিন্তা করুন, যদি ২৪ ঘন্টা রোজার নিয়ম থাকত তাহলে পুরো ২৪ ঘন্টাই পানাহার থেকে বিরত থাকতে হতো। এক্ষেত্রে শরীর অতিরিক্ত পানি হারিয়ে রক্তে গ্লুকোজ কমে মস্তিষ্ক নিস্তেজ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ার মতো অবস্থা হতো। কিন্তু ইসলাম ধর্মে স্রষ্ঠা প্রদত্ত রোজার নিয়ম খুবই সুন্দর ও বিজ্ঞান সম্মত। ইফতারের পর থেকে সেহরী পর্যন্ত যত ইচ্ছে পানাহার করতে পারে মুসলিমদের শরীরের প্রয়োজনীয় উপদানের ঘাটতি হয় না ইসলাম ধর্মে রোযাদারের যেমন পরকালীন পুরষ্কার রয়েছে তেমনি দুনিয়াতেও রয়েছে শান্তি।

রোযার মাধ্যমে কি উপকার হয়? -
১।       চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, রোজা দেহের রোগ প্রতিষেধক ও প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। রোজা পালনের ফলে দেহে জীবাণু বৃদ্ধিকারী অনেক জীবাণু ধ্বংস করে। ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে নানা প্রকার নার্ভ-সংক্রান্ত রোগ বৃদ্ধি পায়।

২।       রক্তচাপ কমাবার এক আদর্শ পদ্ধতি রোজা। রোজা থাকার কারনে পর্যায়ক্রমে মানব দেহের গ্লুকোজ  চর্বিকণাগুলো ক্ষয় হয়ে শক্তি উৎপাদন করে। রোজা রাখলে মেটাবলিক রেটও কমে। এড্রিনালিন এবং নরএড্রিনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন উৎপাদন কমে। আর এতে করে মেটাবলিক হার একটা স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে। ফলে ব্লাড প্রেশার কমে। আর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এথেরেসক্লেরোসিস বা ধমনীতে চর্বি জমার প্রক্রিয়ার ওপর যা হার্ট এটাকের ঝুঁকি কমায়।

৩।      ম্যাসব্যাপী রোজা রাখার ফলে শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশ্রাম পায়। দৈনিক গড়ে প্রায় ১০-১৫ ঘণ্টা উপবাসের সময় লিভার, কিডনি ও মূত্রথলি ইত্যাদি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিশ্রামে থাকার কারনে সতেজ হয়ে উঠে এবং কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়

৪।      তেল, চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহনের ফলে যাদের লিভার ও প্লিহা বড় হয়ে গেছে, রোজার ফলে তাদের ওই বর্ধিত লিভার ও প্লিহা কিছুটা হলও কমে আসে

৫।      আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে দেখেছেন যে, রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে মস্তিষ্কে নতুন নতুন কোষের জন্ম হয়। ফলে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বেড়ে যায়। রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে দেহ ও মনে নিঃসন্দেহে একধরণের ইতিবাচক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। 

৬।       রোজা রাখার ফলে কিডনি ও মূত্রথলির নানা প্রকার সমস্যা নিরাময় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

৭।      রোজাদারের দিনের বেলায় অগ্ন্যাশয় থেকে হজমের রস নির্গত হয়না বিধায় অগ্নাশয় দির্ঘদিন বিশ্রাম পায়। ফলে অগ্ন্যাশয়ের ক্ষমতা বাড়ে এবং এর কারণে যাদের বহুমুত্র রোগ রয়েছে তা উপশমের সম্ভাবনা থাকে।

৮।       অতিভোজনের ফলে অনেকেরই পাকস্থলি বড় হয়ে যায়। রোজার মাধ্যমে লিভারে রক্ত সঞ্চালন দ্রুত হয় ফলে ত্বকের নিচে সঞ্চিত চর্বি, পেশীর প্রোটিন, গ্রন্থিগুলো এবং লিভারে কোষসগুলোর রস সমূহ বেশি নিঃসরণ হয়। ফলে নিয়মিত রোজায় অভ্যাসকারীদের শারীরিক অসুখ বিসুখ ও অবকাঠামো অন্যদের চাইতে অনেক ভালো থাকে।

৯। রোজাদার ব্যক্তির নতুন স্নায়ু কোষগুলো দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে। রোজা রাখলে হরমোনের বৃদ্ধিও দ্রুত হয়।

শেষ কথা- রোজা কেবল পরকালের মুক্তি নয় ইহাকালীন সার্বিক কল্যান করে থাকে। রোজা রাখার ফলে সওয়াব হাসিলের পাশপাশি আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কমবেশি উপকার হয়। রোজার রবকতে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, মমত্ববোধ ও গভীর ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। কেননা যারা কোনোদিন ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত থাকেনি, তারা রোযার মাধ্যমে একজন ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারে। তাই সকলের উচিত ফরজ রোজা ছাড়াও নফল রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা।