Read more


লেবুর শক্তি
লেবু পছন্দ করেনা এমন লোক এমন লোক খুব কমই আছে। তাই খাদ্য তালিকায় লেবু থাকা চাই।
লেবুতে যা যা আছে : লেবুর রসে রয়েছে ভিটামিন সি, , বি১, বি৬, ম্যাগনেসিয়াম, বায়োফ্লাভোনয়েড, প্যাকটিন, ফলিক এসিড, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়াম।, যা ওজন কমায় ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করে। লেবুর শরবত আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় ও বহুল প্রচলিত। লেবুর সরবত সর্দি-কাশির সমস্যা দূর করতে জুড়ি নেই। পাকস্থলী, হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগসহ ইনফ্লুয়েঞ্জা, ল্যারিঙ্গিটিস, ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ ও হাইপারটেশনে লেবু খুবই উপকারী। এটি স্নায়ু ও মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায় এবং ফুসফুস পরিষ্কার করে হাঁপানি সমস্যার উপশম করে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
আমরা খাবারে, রান্নায় কম বেশি লেবু রাখি। তবে সঠিক ও খুবই ফলদায়ক হচ্ছে  লেবুর শরবতে। তাহলে আমরা জেনে নিই কি কি উপায়ে লেবু খেলে আমাদের স্বাস্থ্যগত উপকার পেতে পারি।

ওজন কমায়

যাদের দিন দিন ওজন বেড়ে যাচ্ছে তাদের জন্য লেবু আদর্শ একটি মহৌষধ। দ্রুত বাড়তি ওজন বা মেদ কমাতে লেবুর তুলনা নেই। ভাল ফলাফলের জন্য হালকা গরম পানিতে, লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়া জরুরী। পানি হালকা গরম করে তারপর লেবু ও মধু মেশাবেন। তবে কখনই মধু গরম করবেন না। লক্ষ্যনীয় যে ঠান্ডা পানির সাথে লেবু ও মধু মিশ্রনে ওজন কমাবে না বরং বাড়বে।
হজম শক্তি বাড়ায়:
আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগ ব্যাধির সৃষ্টি হয় দুর্বল হজম শক্তিরর কারনে। দূর্বল হজম শক্তির কারণে গ্যাসট্রিক, পেট ব্যথা, মাথা ব্যথা, ত্বক সমস্যা, ও পৃষ্ঠদেশ/মেরুদন্ড ও কোমরে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা ব্যাপকভাএব দেখা দেয়। এসব রোগ প্রতিরোধে (digestion ability) লেবু অনন্য ভূমিক পালন করে থাকে।
হজম শক্তি বাড়াতে একগ্লাস ফ্রেস লেবুর শরবতের সাথে খানিকটা বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করলে হজম শক্তি বাড়িয়ে তুলবে সন্দেহ নেই। সকালে হালকা গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে একগ্লাস শরবত পান করলে হজম প্রক্রিয়া বাড়বে, পেট শান্ত থাকবে এবং পরিপাক তন্ত্রে থাকা টক্সিন শরীর থেকে বের করে দিয়ে গ্যাস সমস্যা দুর করবে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে লেবু : ১০০ গ্রাম লেবুতে থাকে ১৭০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, যা আমাদের নার্ভ, হৃদযন্ত্র এবং পেশি শক্ত করতে সাহায্য করে।
লেবুর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। লেবুতে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকায় মূত্রের সাথে সহজে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হতে সাহায্য করে। এতে ক্যান্সারের ঝুকি কমে। তাই লেবুকে ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়। তবে যাদের ক্যান্সার হয়ে গেছে তাদের বেলায় লেবু ফল দেবেনা। তাই সুস্থ থাকা অবস্থায় লেবু খেলে ভবিষ্যত ক্যান্সারের ঝুকি কমায়। এছাড়া লেবুর শরবত রক্ত পরিষ্কার করতেও সাহায্য করে। এবং মুখের স্বাদ বৃদ্ধি করে।
স্নায়ু দুর্বলতায় :
স্নায়ু দুর্বলতা, মস্তিষ্ক সতেজ ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধিতে লেবুর উপকারীতা অপরিসীম। লেবুর মধ্যে রয়েছে অতিমাত্রায় পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। যা শুধু মস্তিষ্ক নয়, স্নায়ুকেও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। চিন্তাশক্তি বাড়িয়ে দেহকে গড়ে তুলে কর্ম চঞ্চল।
ইসলামে পাঁচটি স্তম্ভের গুরুত্ব মর্যাদার দিক দিয়ে রোজাদারের অবস্থান ও মর্যাদা সবার ওপরে বেহেশতেও রোজাদারদের পৃথক মর্যাদার ব্যবস্থা থাকবে প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, রোজাদাররা রাইয়ান দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহ্ সাক্ষাৎ লাভের আশীর্বাদে পুরস্কৃত হবে’(বুখারি) ইমাম গাজ্জালি যথার্থই বলেছেন, সব এবাদতই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের জন্য, তবুও মার্যাদার উচ্চতায় রোজা পবিত্র কাবাগৃহের ন্যায় প্রাধান্য রাখে, যদিও সমস্ত ভূপৃষ্ঠই আল্লাহ্ তাআলার সৃষ্টি
শারীরিক ও মানসিক উন্নতির প্রধান কারণ হলো, ইসলামের রোজা রাখার পদ্ধতি ইসলাম ধর্মে স্রষ্ঠা প্রদত্ত রোজার নিয়ম খুবই সুন্দর ও বিজ্ঞান সম্মত। সেহরী থেকে ইফতার পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয় অত:পর বাকী সময় ইচ্ছেমত পানাহার করতে পারেতাই রোযাদারদের শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি বা উপদানের ঘাটতি হয় না ইসলাম ধর্মে রোযাদারের যেমন পরকালীন পুরষ্কার রয়েছে তেমনি দুনিয়াতেও রয়েছে শান্তি।

শুরু হচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায়ের সিয়াম-সাধনা, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান। রোযাদারের সারাদিন রোজা রাখার পর প্রথম খাবারই হচ্ছে ইফতারি। তাই পরিমিত ও সহজে হজমযোগ্য খাবার ইফতারে খেলে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা যায়।

আমরা অনেকেই মনে করি দীর্ঘ সময় রোজা থাকার কারনে যাবতীয় পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয় বিধায় ইফতার ও সেহরিতে নানাবিধ খানা বেশি বেশি খেতে হবেআর এ জন্য বেড়ে যায় রকমারী দৃষ্টিনন্দর বিভিন্ন ধরনের ইফতারী। কিন্তু এই দৃষ্টিনন্দর ইফতারী বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য উপযোগী নয়। রোজার মাসে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সঠিক ও স্বাস্থ্যকর ইফতারি অনেক জরুরি একটি বিষয়। তবে দৈনিক চাহিদার ভিত্তিতে ইফতারী ও সেহরীতে খাবারের ভিন্নতা দরকার। তাই যথাযথ পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে পারে।